Logo Logo

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ


Splash Image

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশব্যাপী শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে 'সর্বস্তরের জনগণ'-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে নারী অধিকার জোটের সভাপতি লায়লা পারভীন, নারীনেত্রী বিবি মরিয়ম, উন্নয়নকর্মী ফারজানা তিথি, ব্যবসায়ী সুমন নূর এবং অমিত পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা রামিসার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসার কারণেই একের পর এক এমন জঘন্য অপরাধ ঘটে চলেছে। রামিসার পরিবারের বর্তমান যে চরম হতাশা ও আর্তনাদ, তা মূলত এই বিচারহীনতারই এক নির্মম প্রতিফলন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় এই ধরনের বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এ ধরনের বর্বরতা শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারকেই ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজকে এক গভীর আতঙ্ক ও বেদনার মধ্যে নিমজ্জিত করে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চরম সামাজিক অবক্ষয়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বারবার এই ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।

প্রশাসনের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিরাপত্তা দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। এই সংকটে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...