বিজ্ঞাপন
নিহত ইসমাইল হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে বৈধ ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ইসমাইল। সেখানে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালোই চলছিল তাঁর কর্মজীবন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই সুখ আর বেশিদিন স্থায়ী হলো না।
গত ৬ মে (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে উঁচুতে কাজ করার সময় হঠাৎ কাঁচি লিফটের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় সহকর্মীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পেনাংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় গত ১৩ মে (বুধবার) কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মালয়েশিয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে গত ২০ মে (বুধবার) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইসমাইলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ শার্শার কাশিপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে লাশবাহী গাড়িটি গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ আর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইসমাইলের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো কাশিপুর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এরপর সকাল ১০টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...