বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের পূর্ব পাশে প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এক বৃদ্ধের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ভিড় জমান। পরে খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার সঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মফিজুর রহমান, ওয়ার্ড বয় আবু বক্কর ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ মে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সদস্যরা অসুস্থ অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে ওয়ার্ড মাস্টার মফিজুর রহমান ওয়ার্ড বয় আবু বক্করকে ওই বৃদ্ধকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে অন্যত্র রেখে আসার নির্দেশ দেন। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ড বয় আবু বক্কর ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী জাকির হোসেন সিএনজি অটোরিকশাযোগে বৃদ্ধকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের সামনে রেখে আসেন।
এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী জাকির হোসেন বলেন, “ওয়ার্ড মাস্টার ও ওয়ার্ড বয়ের নির্দেশে আমরা লোকটিকে স্টেশন মসজিদের সামনে রেখে এসেছি। সেখানে থাকলে অন্তত কেউ না কেউ তাকে সাহায্য করবে—এই চিন্তা থেকেই সেখানে রাখা হয়েছে।”
এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুলতান মাহমুদ জয় জানান, তাদের ভলান্টিয়ারদের তত্ত্বাবধানে থাকা রোগীকে হাসপাতালে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তারা জানতে পারেন, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী গোপনে ওই রোগীকে রেলওয়ে স্টেশনে রেখে আসেন।
তিনি বলেন, “একজন অসহায় ও চিকিৎসাধীন রোগীকে গোপনে স্টেশনে ফেলে আসা দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার চরম বিপর্যয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
ফেনী রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...