Logo Logo

রাঙামাটির বিলাইছড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মুচলেকা দিয়ে পার পেলেন বৃদ্ধ


Splash Image

অভিযুক্ত মো. গফুর মিয়া।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় নবম শ্রেণির এক চাকমা সম্প্রদায়ের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাটি থানায় না গিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত মো. গফুর মিয়া (৭০) বিলাইছড়ি উপজেলার ২ নম্বর কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাছকাটাছড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৩ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী বিলাইছড়ি বাজার থেকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে কেরনছড়ি এলাকার ধানক্ষেতের বিলের মাঝ দিয়ে রাইখ্যাং নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত গফুর মিয়া তাকে একা পেয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন এবং ধরার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিশোরীটি দৌড়ে পাশের কেরনছড়ি গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং নিজেকে রক্ষা করে। এসময় অভিযুক্ত তাকে ধাওয়া করেন বলেও দাবি পরিবারের। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির আশঙ্কায় ধানক্ষেতে কাজ করা কৃষকরা আগেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় এলাকাটি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগেই এ ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত গফুর মিয়াকে আটক করে বিলাইছড়ি বাজারে নিয়ে যান। পরে ২ নম্বর কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামাচরণ মার্মা (রাসেল), সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য এবং উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, ওই মুচলেকার মাধ্যমেই ঘটনাটি নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ২ নম্বর কেংড়াছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রামাচরণ মার্মা (রাসেল) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গফুর মিয়াকে বাজারে নিয়ে আসে। পরে উভয় পক্ষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে গফুর মিয়া দোষ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে মুচলেকা দেন।”

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত গফুর মিয়া ভবিষ্যতে বিলাইছড়ি বাজার ও গাছকাটাছড়ার সুরুজের দোকানের সীমানার ওপরে যেতে পারবেন না।

চেয়ারম্যান আরও দাবি করেন, এর আগেও গফুর মিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। তিনি একজন মাদকাসক্ত বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে, বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওসমান গণি বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...