বিজ্ঞাপন
খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ তিন টন পর্যন্ত ধান সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। তবে নলছিটিতে লটারিতে মনোনীত অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে খোদ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলছিটিতে বোরো ধান বিক্রির জন্য মোট ১ হাজার ৬৫৯ জন কৃষকের আবেদনের বিপরীতে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা লটারির মাধ্যমে ২২৯ জন কৃষককে মনোনীত করেন। নিয়ম অনুযায়ী, লটারি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচিত বোরো চাষিদের তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা রহস্যজনকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা গোপনে যাচাই করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এক এলাকার কৃষককে সম্পূর্ণ ভিন্ন অন্য এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তির নামের পাশে। এছাড়া তালিকায় প্রকৃত কোনো চাষি না হয়েও সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একই গ্রামের পাঁচজন কৃষকের কার্ড অবৈধভাবে ব্যবহার করে খাদ্য গুদামের অনিয়মিত স্টাফরাই গুদামে ধান সরবরাহ করছেন। অথচ যাদের নামে সরকারি খাতায় ধান বিক্রি দেখানো হচ্ছে, তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত নন। এমনকি সরকারি বরাদ্দপত্রে কৃষকদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও উঠেছে।
প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত না করে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এই চক্রটি মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের এই অনিয়মকে সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
কৃষকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা সাধারণ বা প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি গুদামে সরাসরি কোনো ধান বিক্রি করতে পারছেন না। কোনো সাধারণ কৃষক কষ্ট করে গুদামে ধান নিয়ে গেলে ধানের গুণগতমান খারাপ বলে আপত্তি তুলে তা ফেরত দিতে মানসিক চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে হয়রানি থেকে বাঁচতে কৃষকদের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ধান সরবরাহ করতে হচ্ছে। এছাড়া গুদামে ধান খালাসের জন্য লেবার বা শ্রমিকদের নামে প্রতি জন কৃষকের কাছ থেকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নলছিটি উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ধানের গুণগতমান যাচাইয়ের নামে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণের তথ্যটি সঠিক নয়। তবে পণ্য খালাসের জন্য শ্রমিকদের খুশি করতে সামান্য কিছু বকশিস নেওয়া হতে পারে।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম শফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে এমন অনিয়মের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও আমরা পাইনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিত আকারে পেলে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...