Logo Logo

কোটালীপাড়ায় ৪২ মণের ‘কালো পাহাড়’, কোরবানির হাটের বড় আকর্ষণ


Splash Image

মাথা ও পেছনের অংশ সাদা হলেও পুরো শরীর কুচকুচে কালো। বিশাল দেহ, লম্বা পা আর পাহাড়সম আকৃতির সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘কালো পাহাড়’। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা বিশালাকার এই গরুটি আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধার বাড়িতে গেলে দেখা মিলবে এই দানবীয় আকৃতির গরু কালো পাহাড়ের। নামের সঙ্গে মিল রেখেই যেন তার শারীরিক গঠন ও আকৃতি। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই গরুটির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং ওজন প্রায় ৪২ মণ।

খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা জানান, পাঁচ বছর আগে নড়াইল জেলার পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় তিনি বাছুরটি সংগ্রহ করেন। এরপর কালো পাহাড়কে নিজের বাড়িতেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পরম মমতায় লালন-পালন করে বড় করেছেন। কোনো প্রকার কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই গমের ভুসি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুসি ও ভুট্টার পাউডার খাইয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন গরুটির পেছনে খাবার ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হয়। গত বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে বিক্রির প্রস্তুতি নিলেও এত বড় গরুর ন্যায্য মূল্য ও বিক্রি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই খামারি।

টুপুরিয়া গ্রামের হাসেম মিয়া বলেন, বিশাল আকৃতি আর আকর্ষণীয় গঠনের কারণে কালো পাহাড় এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কোরবানি যত ঘনিয়ে আসছে, বিশালাকার এই পশুকে একনজর দেখতে খামারি মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে। গরু দেখে অনেকেই বলছেন, এত বড় গরু তারা আগে কখনো দেখেননি। ধূরাল গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মিজানুর রহমান ও তারাশী গ্রামের নিয়ামত হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এই দীর্ঘ জীবনে অনেক বড় বড় গরু দেখেছি, কিন্তু এই কালো পাহাড়ের মতো এত বড় ও দৃষ্টিনন্দন গরু আগে কখনো চোখ পড়েনি।"

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার কালো পাহাড়ের বিশালত্ব নিশ্চিত করে বলেন, "আমার চাকরি জীবনে এখন পর্যন্ত জেলায় এত বড় গরু আমি দেখিনি। এর আগে এত বড় গরু কখনও জেলার কোনো হাটে ওঠেনি। আশা করছি, এবার এই জেলার কোরবানির হাটে কালো পাহাড়ই হবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।"

তিনি আরও জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে শুরু থেকেই খামারি মনিরুজ্জামানকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এত বড় ও দামি গরু এই জেলার স্থানীয় হাটে বিক্রি হওয়া কঠিন। তাই আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে গরুটি ঢাকায় নিয়ে সুবিধাজনক মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা যায়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...