বিজ্ঞাপন
উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম অভয়নীল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খামারি কবির হোসেন শরীফ বাদী হয়ে নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কবির হোসেন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে নিজের বসতবাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান ও পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ১৯ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রতিদিনের মতো তার ছেলে ইমন শরীফ ও প্রতিবেশী শুভ আচার্য ফার্মের পাহারাদার কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কক্ষে উঠে তারা দেখতে পান পুরো খামারটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় তাদের চিৎকার ও আর্তনাদে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
খামারি কবির হোসেন শরীফ জানান, আগুনে তার পোল্ট্রি ফার্মের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খামারে থাকা ৬ বস্তা মুরগির ফিড (খাবার), ফ্যান, মুরগির খাবারের পাত্র, ভেতরের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও পানির মোটরসহ মূল্যবান বিভিন্ন সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি অভিযোগ করে আরও বলেন, একই এলাকার শফিক হাওলাদার, রায়হান হাওলাদার, কাইয়ুম হাওলাদার ও ছাব্বির হাওলাদারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার একটি মৎস্য ঘের নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার ঠিক আগের দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে প্রকাশ্যে খামার পুড়িয়ে দেওয়া এবং খামারের পাহারাদারদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তার দৃঢ় ধারণা, ওই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পোল্ট্রি ফার্মে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারির একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...