বিজ্ঞাপন
তিনি উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরগুনা জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৈয়দ ফজলুল হক কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের অভিমান, কষ্ট ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন- “দলের জন্য জীবন বাজি রেখে অনেক কিছুই করেছি। ভাবতাম, একদিন হয়তো দল ক্ষমতায় এলে আমাদের মতো ত্যাগীদের মূল্যায়ন হবে। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। আজ হাতে উঠেছে চাকরির নিয়োগপত্র নয়, বিমানের টিকিট।”
তার ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ সময়ের পরিক্রমায় জীবিকার তাগিদে এখন তাকে বেছে নিতে হচ্ছে প্রবাস জীবন।
তিনি আক্ষেপ করে আরও উল্লেখ করেন, দুর্দিনে যারা মাঠে ছিল, তারা আজ অবহেলিত। আর ৫ আগস্টের পর উড়ে এসে জুড়ে বসা অনেক অপরিচিত মুখ হয়ে গেছে পদ-পদবির মালিক।
স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে ক্ষোভ ঝরে পড়ে তার কথায়— “দল করতে করতে অনেকেই আইবুড়ো হয়ে গেলো, চাকরি পেল না। যারা মাঠে ছিল, তারা আজও বেকার। ত্যাগের মূল্য সবসময় সবাই পায় না।”
তবে অভিমান আর হতাশার মাঝেও বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসাই ছিল তার লেখার সবচেয়ে আবেগঘন অংশ। সকলের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন- “যে মা ১০ মাস গর্ভে ধারণ করেছেন, আর যে বাবা রক্ত পানি করা টাকা দিয়ে বড় করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সেবা করার তৌফিক দেন এবং নেক হায়াত দান করেন।”
রাজনীতির রঙ বদলায়, সময়ও বদলায়। কিন্তু কিছু মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা না বলা কষ্টগুলো হয়তো কখনো বদলায় না। স্বপ্নভাঙার সেই গল্প নিয়েই এই তরুণ রাজনীতিবিদ পাড়ি জমালেন প্রবাস জীবনের পথে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...