বিজ্ঞাপন
গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আটককৃত অভিযুক্ত শফিকুল মোল্লা বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের মো. সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। সে গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ‘মধুমতি বেকারি’তে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন মধুমতি বেকারির দ্বিতীয় তলায় ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যায় শফিকুল। সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা শফিকুলকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শফিকুলকে আটক করে। চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, “মধুমতি বেকারির কাছেই আমাদের বাসা। আমার ছেলে বাসা থেকে পাশে তার দাদার বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে বেকারি কর্মচারী শফিকুল বেকারির দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার ছেলের সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার মূল হোতা শফিকুলের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত শফিকুল মোল্লাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শফিকুল মোল্লা নিজের অপরাধের কথা এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এই বিষয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজুসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...