বিজ্ঞাপন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলায় মোট প্রায় ৩ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন উচ্ছে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
জেলার সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা ও বারখাদিয়া এবং কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা, হাতিয়াড়া ও রাহুথড় এলাকায় ব্যাপকভাবে উচ্ছে চাষ হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষেতজুড়ে সবুজ পাতা ও হলদে ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে উচ্ছে, আর তা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উৎপাদিত উচ্ছে জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একবার গাছ লাগালে প্রায় চার মাস পর্যন্ত উচ্ছে সংগ্রহ করা যায়। ভালো ফলন হলে প্রতি সপ্তাহে বিঘাপ্রতি (৫২ শতাংশ) প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত উচ্ছে পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ উচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে মাসে প্রায় এক লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তারা।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক দুলাল হীরা জানান, তিনি এবছর এক বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করে ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৮০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন। এখনও ক্ষেতে ফল রয়েছে এবং নতুন করে ফুলও এসেছে। সব মিলিয়ে আরও প্রায় এক লক্ষাধিক টাকার উচ্ছে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
একই গ্রামের আরেক কৃষক রঞ্জিত ভক্ত জানান, তিনি ৩০ শতক জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। তিনি এখন পর্যন্ত কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন। আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
বারখাদিয়া বাজারের আড়তদার সমীর মজুমদার বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পিকআপে উচ্ছে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকাররাও সরাসরি এসে উচ্ছে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বৌলতলী ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, এ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক উচ্ছে চাষের সঙ্গে যুক্ত। কম খরচে ও তুলনামূলক কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছেন। চলতি বছর জেলায় মোট ১৪৮ হেক্টর জমিতে উচ্ছের আবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১২৮ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সবকিছু অনুকূলে থাকলে কৃষকরা এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...