নিহতের স্বামী শাহিনুর ইসলাম শাহিন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩০ মে) সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ-রামপুর এলাকার দেবারু ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী শাহিনুর ইসলাম শাহিন আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার মসলিম উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে মিতু ও শাহিনুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শাহিনুর শহরে একটি ছোট মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান পরিচালনা করতেন। তবে পরবর্তীতে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, শনিবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শাহিনুর তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মিতু আত্মহত্যার কথা বললে স্বামী তাকে নিবৃত্ত না করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে এসে তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে রোববার (৩১ মে) ভোররাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই শাহিনুর ইসলাম শাহিন পলাতক রয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি ছিল। মাদকাসক্তির কারণে শাহিনুর প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে তারা শুনেছেন। ঘটনার দিন বিকেলেও তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া ও চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। মিতু কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল আর মাত্র ২৭ দিন পর। অনেক সময় তাকে মনমরা অবস্থায় দেখা যেত। এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা দেবারু ইসলাম বলেন, “পারিবারিকভাবে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে নির্যাতন করত বলে মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। বহুবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। ঘটনার দিনও আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমার মেয়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আমরা নতুন অতিথির অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু আজ মেয়ে আর আমার অনাগত নাতি—দুজনকেই হারালাম। আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও পুলিশ অবগত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...