Logo Logo

কর্ণফুলীতে সাঁকো নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ আহত ৩


Splash Image

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ও শিকলবাহা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি খালের ওপর সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


গত শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চরলক্ষ্যা ও শিকলবাহা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সোনা মিয়া ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহতদের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৫৬) দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের একটি গরুর খামারের পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন একটি বসতঘরে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে সাঁকোটি নির্মাণ ও পরবর্তীতে অপসারণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপসারণ করা বাঁশের সাঁকোটি জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়নি। তাদের দাবি, সাঁকোটি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে শিকলবাহা এলাকা থেকে মাদক কারবারি, চোর ও ডাকাত চক্রের সদস্যরা চরলক্ষ্যা এলাকায় প্রবেশ করতে পারত। ফলে এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় এনে সাঁকোটি অপসারণ করা হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিকলবাহা এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি প্রবাসী মো. দেলোয়ারকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ওই ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।

জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁকো অপসারণের বিষয়টি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ তিনজন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফোরকান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। এ সময় খালের ওপার থেকে আমার ওপর হামলা করতে উসকানি দেওয়া হয়। পরে ছোড়া ইটের আঘাতে আমি রক্তাক্ত হই। আমার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আমরা চাই বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক।”

অপর এক আহত ব্যক্তি জানান, তারা কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়াতে চাননি। হঠাৎ করে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কয়েকজন আহত হন।

তবে অভিযুক্ত পক্ষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযুক্তদের পক্ষের মামুন বলেন, “একটি পরিবারের নির্মিত সাঁকোটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার কারণে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমাদের বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।”

এদিকে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।

কর্ণফুলী থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...