Logo Logo

মামলা না নেওয়ায় থানায় বসেই বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ


Splash Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিজের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে থানার ভেতর থেকেই ফেসবুক লাইভ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম।


বিজ্ঞাপন


গতকাল রবিবার (৩১ মে) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নবীনগর থানায় বসে লিখিত এজাহার হাতে নিয়ে লাইভে আসেন তিনি। এ সময় তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।

ফেসবুক লাইভে নাজমুল করিম অভিযোগ করেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি আইনি প্রতিকারের আশায় থানায় আসেন এবং ওসি ও ওসি (তদন্ত)-এর সাথে কথা বলে এজাহার জমা দিতে চান। তবে দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও তার লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

লাইভে তিনি বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার সাথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রাত সোয়া ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করলেও আমার এজাহার গ্রহণ করা হয়নি। ওসি ও ওসি তদন্ত আমাকে রেখে থানা থেকে বের হয়ে গেছেন। আমি অভিযোগ দেওয়ার মতো কাউকে পাইনি। আমি নবীনগরবাসী ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, এটা কার ইন্ধনে হচ্ছে?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে?”

ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে নাজমুল করিম জানান, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদের মৃত্যুর পর সভাপতির পদটি শূন্য হলে তা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে না থেকেও জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান সভাপতি পদে অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ওয়ার্ড কমিটির মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন ছাড়া তিনি ওই পদে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

নাজমুল করিমের অভিযোগ, গত রোববার (৩১ মে) শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড়া এলাকায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুনুর রশীদের বাড়ির সামনে মাহবুব রহমান ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের চেষ্টা করেন। এমনকি তাকে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ এজাহার পরিবর্তনের কথা বলে গড়িমসি করে। তার স্পষ্ট ভাষ্য, তিনি চান তার নিজের লেখা এজাহার অনুযায়ীই যেন মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এদিকে, থানার ভেতর থেকে করা উপজেলা বিএনপি নেতার এই ফেসবুক লাইভটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী। রাত আড়াইটার দিকে তিনি জানান, একটি অপমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে তিনি থানার বাইরে থাকায় অভিযোগ গ্রহণে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

ওসি বলেন, “থানায় ওসি তদন্ত ও ডিউটি অফিসার উপস্থিত রয়েছেন। অভিযোগ জমা দিতে কোনো বাধা নেই, যে কেউ অভিযোগ দিলে পুলিশ তা নিতে বাধ্য। আমি তাকে একবারও বলিনি যে মামলা নেওয়া হবে না। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...