বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর অব্যাহত ভাঙনে রাজানীকান্দা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর স্রোত সরাসরি বসতবাড়ির দিকে ধেয়ে আসায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আব্দুল হক (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রায় ১২ বছর অন্যের বাড়িতে থেকেছি। অনেক কষ্ট করে ছেলেদের নিয়ে এখানে বাড়ি করেছি। এখন নদী সবকিছু ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আহমাদ জানান, একসময় তাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুইশ হাত পশ্চিমে নদী ছিল। কিন্তু ক্রমাগত ভাঙনের ফলে নদী এখন বসতভিটার গায়ে এসে আঘাত হানছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় এক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”
গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য টিটু মিয়া বলেন, “নদী আগে অনেক দূরে ছিল। এখন বাড়িঘর ভাঙছে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গোবিন্দশ্রী থেকে কদমশ্রী বেইন্নে বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিসি সড়কটিও হুমকির মুখে পড়বে।”
স্থানীয় শিক্ষক মিলাদ হোসেন বলেন, “এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব। অন্যথায় শুধু ঘরবাড়িই নয়, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।”
গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, “নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি কদমশ্রী সকাল বাজার থেকে গোবিন্দশ্রী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “আমি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রাজানীকান্দার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...