বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) রাতে এশার নামাজের সময় পৌরসভার কাটলী এলাকার সাব-ঠিকাদার আবু চানের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মনোয়ারা বেগমের স্বামী আবু চান (৬০) ও ছেলে মুন্না (২৫)। তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রতিবেশী রিকশাচালক আব্দুর রশীদ (৩৪)কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আব্দুর রশীদের সঙ্গে নিহত পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ছিল। তিনি প্রায়ই মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও টাকা ধার নিতেন এবং তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করতেন। ঘটনার দিনও তিনি কয়েকবার ওই বাসায় যাতায়াত করেন এবং পানির সংকটের কারণে নিজের বাড়ি থেকে পানি এনে দেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবু চান তার বড় ছেলে আনোয়ারকে ফোন করে বাসায় হামলার কথা জানান। খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে আবু চান ও মুন্নাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঘরে মনোয়ারা বেগমকে খুঁজতে গিয়ে খাটের নিচে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের ছোট মেয়ে ইশা মনি জানান, আব্দুর রশীদ তাদের পরিবারের পরিচিত হলেও ঘটনার দিন তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। বিষয়টি তিনি মাকে জানিয়েছিলেন। পরে প্রাইভেট পড়তে বাইরে গেলে কিছু সময় পর বাড়িতে হামলার খবর পান।
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “একজন ব্যক্তির পক্ষে একাই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো কঠিন। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার এবং নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যার কারণ ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক টিম ও পিবিআইকে অবহিত করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...