নিহত জুবায়ের হোসেন রাকিব।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) সকালে নিহত রাকিবের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন রাকিব। তিনি খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাকিবের চাচার বাড়িতে একটি নির্মাণাধীন পাকা ভবনের কাজ চলছিল। ওই নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে আসামিরা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে রাকিবকে হত্যা করে এবং তার ছোট ভাইকে আহত করে।
এ ঘটনার পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরসহ আটটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাকিব হত্যার বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে রাকিবের মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান জানান, মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...