বিজ্ঞাপন
প্রাপ্ত নথির বিবরণ অনুযায়ী, পানি সম্পদ অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা এবং লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২২-এর কোনো তোয়াক্কা না করেই সম্পূর্ণ কাজটি যান্ত্রিক সরঞ্জাম বা এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের মাটি কাটার কাজে স্থানীয় দুস্থ ও সাধারণ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মধুমতি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড তা সম্পূর্ণ অমান্য করেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চরবয়রা, চরগোবরা ও ভাটিয়াপাড়া খালের পাশ দিয়ে নির্মিত পাকা রাস্তার পার্শ্ব ঢাল (সাইড স্লোপ) কেটে এক্সকাভেটর দিয়ে খালের মাটি খনন করা হয়। চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে সেই খননকৃত মাটি রাস্তার ঢালেই স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পানিতে সেই স্তূপীকৃত মাটি ধুয়ে পুনরায় খালে নেমে যায় এবং একই সাথে পুরো পাকা রাস্তাসহ আশেপাশের বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তদন্ত দল সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় রাস্তার বেশ কিছু স্থানে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভাঙনের সত্যতা এবং বাদীর অভিযোগের শতভাগ প্রমাণ পেয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সমবায় অধিদপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই সমিতিটি গঠিত এবং সমবায় দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত। মূলত ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটি পরিচালিত হলেও প্রকল্প প্রদান বা বাস্তবায়নের সাথে সমবায় বিভাগের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না। এটি সম্পূর্ণভাবে এলজিইডি এবং সংশ্লিষ্ট সমিতির মধ্যকার একটি চুক্তিবদ্ধ কার্যক্রম।
তদন্ত দল স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে দীর্ঘ আলোচনা ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই খালের মাটি খননের কাজটি কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার বা দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি। বরং এলজিইডি’র আইডব্লিউআরএম (IWRM) ইউনিট কর্তৃক সরাসরি মধুমতি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড-কে এই কাজ প্রদান করা হয়েছিল। কাজ পাওয়ার পর সমিতি নির্দেশিকা ১৮.৬.১ অনুযায়ী পানি সম্পদ অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।
একই সাথে নির্দেশিকা ২০.১ হতে ২০.২.১০ এবং ২০.৩ অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করা হয়েছে। বর্ষার আগে ও পরে যথাযথ পরিদর্শন ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে নিয়ম নির্দেশিকা ১২.২.২ ও ১২.২.৩-এ রয়েছে, তাও সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ২০.৪ নির্দেশিকা অনুযায়ী তদারকির দায়িত্ব পালন করা হয়নি। সার্বিকভাবে, তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশিকা ১৮.১ এবং প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ২০.৩ নির্দেশিকা অমান্য করায় এই সরকারি রাস্তার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে তদন্ত দল নিশ্চিত করেছে।
তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করেছেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...