বিজ্ঞাপন
এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১১ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের আরাজি নাগরী-সাগরী ও মাহাতাপুর এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বললেন, সাঁকোটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে শতশত শিক্ষার্থী। তাদের এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ ঘুরে। কেউ কেউ সময় বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করছে।
এই ভোগান্তি এড়াতে অনেক কামাই দিচ্ছে ক্লাস। পিছিয়ে পড়ছে পড়াশোনায়।
শিক্ষার্থী মাসুদ রানার আক্ষেপ, আগে অল্প সময়েই মাদ্রাসায় পৌঁছানো যেত। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে চলাচল। দীর্ঘদিন একটি সেতুর অপেক্ষায় আছে দুই গ্রামের মানুষ। কিন্তু আমাদের কষ্ট দেখে না কেউ।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হওয়ায় ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানালেন কাটগর রাজাপুকুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম খোকন।
তার ভাষ্য, সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে না। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইলপথে ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে ঝুঁকিতে পড়ছে ছাত্রীদের জীবন।
‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায়। অনেকের মধ্যে দেখা দিচ্ছে অনীহাও, যোগ করলেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ছিল তাদের ভরসা। সম্প্রতি সেটি নদীর স্রোতে ভেঙে যাওয়ার পর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক গ্রামের মানুষ।
আগের তুলনায় মুনাফা কমে যাওয়ার তথ্য দিলেন মাতাবপুর গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান।
‘আগে সহজেই বাজারে যাওয়া যেত। সাঁকো ভাঙায় এখন ঘুরে যেতে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে। কিন্তু একই পণ্য যখন অন্যরা কম দামে বাজারে বিক্রি করবে তখন বেশি দামে আমার কাছ থেকে কিনবে না কেউ। তাহলে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ তুলব কীভাবে?’— অসহায় প্রশ্ন তার।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি রোগী নিয়ে চলাচল করতে গিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। সাঁকোটা ভাঙেনি, যেন স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনটাই ভেঙে গেছে— আক্ষেপ গ্রামবাসীর।
সাঁকো ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানালেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। দ্রুত অস্থায়ীভাবে নতুন সাঁকো নির্মাণের পাশাপাশি স্থায়ী সেতুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আশ্বস্তও করলেন তিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর আগামীর সময়কে বলেন, ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন আগামীর সময়কে জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...