Logo Logo

হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ


Splash Image

ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় জেলে ও ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী ওই নেতার নাম অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ। তিনি হাতিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি নিজেই গণমাধ্যমের কাছে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ জেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় তার ছেলের শ্বশুরবাড়িতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাতিয়ায় ফেরার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ঘাটে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেরি চলাচল সংক্রান্ত একটি তথ্য দেখে তারা সেখানে এলেও ঘাটে পৌঁছে জানতে পারেন যে রাতের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরবর্তীতে হাতিয়ায় ফেরার জন্য তারা একটি ট্রলার ভাড়া করেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের ট্রলারে তুলে দিয়ে ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ নিজে যখন ট্রলারে উঠতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সরাসরি মেঘনা নদীতে পড়ে যান। এই আকস্মিক ঘটনায় ঘাট এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও হৈ-হুল্লোড় করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীতে পড়ে যাওয়ার পর ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ বেশ কিছুক্ষণ ভেসে থাকার চেষ্টা করছিলেন। এই সংকটাপন্ন অবস্থায় ঘাটে উপস্থিত এক ব্যক্তি দ্রুত তার দিকে একটি গামছা ছুড়ে দেন। তিনি সেটি শক্ত করে ধরে পানির ওপরে টিকে থাকতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয় জেলে ও ঘাটে থাকা অন্য লোকজন সম্মিলিতভাবে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই ট্রলারে ওঠার সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় মানুষের সময়োচিত সহায়তার কারণেই তিনি আজ প্রাণে বেঁচে গেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে তারা জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...