বিজ্ঞাপন
রোববার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে 'গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প'-এর উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহব্বত খান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরে জান্নাত ফেরদৌসী এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোসা. লাভলী। কর্মশালাটিতে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গ্রামীণ ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় অত্যন্ত দ্রুত, সহজ এবং নামমাত্র ব্যয়ে শতভাগ আইনি বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। কোনো চুক্তি, রশিদ কিংবা অনান্য প্রয়োজনীয় দলিলের ভিত্তিতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার মধ্যে হলে, সেই অর্থ আদায়ের মামলা সরাসরি গ্রাম আদালতে দায়ের করা যায়।
এছাড়া এই আদালতের মাধ্যমে অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার কিংবা তার সমপরিমাণ মূল্য আদায়, স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে তার দখল পুনরুদ্ধার, অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলাসহ গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ রয়েছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণের মধ্যে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও এর সুফল সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হলে স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধগুলো নিজেদের মধ্যেই অত্যন্ত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, ঠিক তেমনি দেশের উচ্চ আদালতগুলোর ওপর থেকে মামলার অতিরিক্ত জট ও চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে একক প্ল্যাটফর্মে এসে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আইনি সেবাসমূহ প্রান্তিক মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জোর আহ্বান জানান কর্মশালায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...