মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যাওয়া মায়ের মরদেহের পাশে বসে শোকাহত ছেলে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধা মারা যান। নিহত দিলোয়ারা উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত কাসুম আলীর স্ত্রী বলে জানা গেছে।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ওই বৃদ্ধা তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার মহিলা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে সেখানে দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিকবার আকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও তারা সময়মতো রোগীকে দেখতে আসেননি। স্বজনদের দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ শয্যাপাশে অপেক্ষা করেও কোনো ধরনের জরুরি চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় বিনা চিকিৎসায় দিলোয়ারার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা ওয়ার্ডে ছুটে আসেন।
নিহতের ছেলে রনি মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাকে ভর্তি করার পর থেকে তার কষ্ট দেখে আমি নিজে কয়েকবার ডাক্তার ও নার্সদের কাছে গিয়ে ডেকেছি। তারা বারবার 'আসছি' বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন, কিন্তু কেউই আমার মাকে দেখতে ওয়ার্ডে আসেননি। মা মারা যাওয়ার পর তারা তড়িঘড়ি করে স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে হাজির হন। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মায়ের এই মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।
একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা মাহিন মিয়া নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী রোগী জানান, ওই বৃদ্ধা ছটফট করায় রোগীর স্বজনদের বারবার ডাক্তার ও নার্সদের খুঁজতে কেবিনের দিকে যেতে দেখেছি। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে তা জানি না। তবে এটা সত্য যে, রোগী মারা যাওয়ার পরই চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে আসতে দেখেছি।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসরিন সুলতানা প্রীতি বলেন, রোগী যখন হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন তার অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার নির্দেশনা প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বজনরা ওয়ার্ড থেকে জরুরি খবর দিলে আমি সেখানে গিয়ে রোগীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে কথা বলে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে সত্যতা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মওলা মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নারী রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে অবগত হয়েছি। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...