বিজ্ঞাপন
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পরদিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে ভাঙচুর করে। এছাড়া তার একটি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বাঁধেরহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...