Logo Logo

স্ত্রীর সামনে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ


Splash Image

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্ত্রীর সামনে অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে দফায় দফায় নির্যাতন ও মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


নিহত হাসান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে পাইকগাছা থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে স্থানীয় খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস গাজী হাসান সরদারের স্ত্রীর সামনে প্রস্রাব করতে বসেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে হাসান সরদারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের দাবি, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল হুদা মিন্টুর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে হাসানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রথম দফার নির্যাতনের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে পুনরায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যার দিকে জ্ঞান ফিরলে আবারও হাতুড়ি, ইট ও দরজার হুকসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি পুনরায় জ্ঞান হারান।

অভিযোগ রয়েছে, এশার নামাজের পরও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে নাজমুল হুদা মিন্টুসহ কয়েকজন তাকে চিকিৎসার জন্য নসিমনযোগে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পশুর মতো করে বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।

হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হাসান সরদারের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের ভাইঝি, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম আক্তারসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাসানের মাথার পেছনের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। কপাল ও চোয়ালে পেরেক সদৃশ আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বাম চোখ রক্তাক্ত ছিল এবং হাত-পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তারা আরও অভিযোগ করেন, কেউ ছবি তুলতে বা বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়েছে।

নিহতের চাচা গফ্ফার সরদার অভিযোগ করে বলেন, নাজমুল হুদা মিন্টু, ইবাদাত গাজী, মনিরুল ইসলাম, কুদ্দুস গাজী, কবির সরদার, জহুরুল ইসলাম, আজহারুল গাজী, ইয়াসিন সরদার, পলাশ সরদার ও শুকুর আলীসহ কয়েকজন মিলে হাসানকে মারধর করেন।

এদিকে সোমবার সকালে ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কুদ্দুস গাজী ও তার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুদ্দুস গাজী।

তবে অভিযুক্ত নাজমুল হুদা মিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাসান সরদার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি গাঁজা বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এলাকার যুবসমাজকে মাদকে আসক্ত করছিলেন। স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়েছে। ঘটনার শুরুতে আমি সেখানে ছিলাম না। রাতে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সহায়তায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।”

পাইকগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করেছেন।”

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “এজাহার জমা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। বর্তমানে আমি খুলনায় অবস্থান করছি। সন্ধ্যার মধ্যে থানায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...