বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. রেজাউল করিম, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ, সাংবাদিক এমদাদুল হক লালন, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক আবু তাহের শেখ, সাংবাদিক হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় ইউএনও মুরাদ হোসেন বলেন, "তামাক ও নিকোটিন শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তরুণ প্রজন্মকে এই আসক্তি থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাকবিরোধী আইন যথাযথ বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।"
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর তার বক্তব্যে বলেন, "তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি সমাজের জন্য একটি নীরব ঘাতক। বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ বিভিন্ন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এ আসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।"
অন্যান্য বক্তারা বলেন, "তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করে তাদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।"
আলোচনা সভায় বক্তারা তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে তামাক ও নিকোটিনমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...