Logo Logo

চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ডাক


Splash Image

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে গড়ে ওঠা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের ৩০ শতাংশ অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা এবং একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংগঠন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ সমাবেশ ও জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আর কে চৌধুরী।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর চকবাজার গুলজার মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই আহ্বান জানান।

সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চমেক হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে এই সিন্ডিকেট যেন আইনেরও ঊর্ধ্বে। অ্যাম্বুলেন্স সমিতি কর্তৃক হাসপাতালের ভেতরে বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না দেওয়ার যে অলিখিত নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মগের মুল্লুকেরই শামিল। এই জনবিদ্বেষী সিন্ডিকেটের পেছনে কারা জড়িত এবং এদের খুঁটির জোর কোথায়, তা অবিলম্বে তদন্ত করে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, চমেক হাসপাতালের সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে বছরের পর বছর ধরে এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রাজত্ব চালিয়ে আসছে, যা অত্যন্ত গুরুতর এবং সংবেদনশীল সমস্যা। এই চক্রের চড়া দাম ও অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির দাবির পেছনে এক ভয়াবহ নেপথ্য কারণ ও যোগসাজশ রয়েছে।

সিন্ডিকেটের শক্তির উৎস ও নেপথ্যের কারণসমূহ:

অবৈধ স্ট্যান্ড ও রাজনৈতিক প্রভাব: চমেক হাসপাতালের সামনের মূল সড়ক এবং আশপাশের এলাকা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের পরোক্ষ মদদেই এই সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে টিকে রয়েছে।

হাসপাতালের ভেতরের যোগসাজশ: অভিযোগ রয়েছে যে, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী, যেমন—ওয়ার্ড বয়, ট্রলি বয় কিংবা সিকিউরিটি গার্ড সরাসরি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। কোনো রোগী ছাড়পত্র পেলে কিংবা কোনো রোগী মারা গেলে ভেতরের সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে অবস্থানরত সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বহিরাগত গাড়ি প্রবেশে বাধা: এই সিন্ডিকেটের মূল শক্তি হলো তাদের একচেটিয়া আধিপত্য (Monopoly)। তারা বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স কিংবা বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ফ্রি বা কম খরচের গাড়িকে চমেক হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে বাধা প্রদান করে। ফলে অসহায় রোগীরা বাধ্য হয়ে তাদের নির্ধারিত চড়া দামে গাড়ি ভাড়া করতে বাধ্য হন।

সমাবেশ থেকে এই অমানবিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চমেক হাসপাতালে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও জিম্মিদশা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...