Logo Logo

১৩ বছরের সেবার স্বীকৃতি: মদনে মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়াকে ব্যতিক্রমী রাজকীয় বিদায়


Splash Image

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় দীর্ঘ ১৩ বছর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সুলতু মিয়াকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিদায়ের ক্ষণে তাকে সম্মান জানাতে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা, ক্রেস্ট প্রদান, উপহার ও এককালীন আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিরা। এমন আয়োজন এলাকায় বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার উপজেলার মহিউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ হাত নেড়ে প্রিয় মুয়াজ্জিনকে বিদায় জানান।

জানা যায়, উপজেলার পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুলতু মিয়া গত ১৩ বছর ধরে মহিউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই সঙ্গে তিনি মদন পোস্ট অফিসেও কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের পুরো সময়ে সময়মতো আজান দেওয়া, মুসল্লিদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ এবং ধর্মীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করায় তিনি সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন।

তার অবসরের পরবর্তী জীবন যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারেন, সে বিবেচনায় মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা সম্মিলিতভাবে তাকে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার তুলে দিয়ে তার দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ফকিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজেদুল হক সাজু, সাবেক ইমাম সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শফিকুল আলম, হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিদায়ী মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়া বলেন, "এত সম্মান ও ভালোবাসা পাবো, কখনো কল্পনাও করিনি। আপনাদের এই ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব। আল্লাহ যেন সবাইকে উত্তম প্রতিদান দেন।" বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম বলেন, "দেশে অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিন দীর্ঘদিন ধর্মীয় সেবা দেওয়ার পর অবহেলিত অবস্থায় জীবন কাটান। আমরা চেয়েছি সুলতু মিয়ার অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করতে। আশা করি, এমন উদ্যোগ অন্য মসজিদ কমিটিগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...