Logo Logo

নদীভাঙনে বিলীন বিদ্যালয়, মামলার জটিলতায় ১২ বছর ধরে আটকে পাকা ভবন নির্মাণ; দুর্ভোগে ১৩৪ শিক্ষার্থী


Splash Image

মোঃ আমিনুল ইসলাম, জামালপুর। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৪ সালে নিবন্ধিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৩৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পরও বিদ্যালয়টিতে একটি স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।


বিজ্ঞাপন


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির আলী জানান, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট নতুন স্থানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু এরপর একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ এলেও চলমান একটি মামলার কারণে পাকা ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ শিক্ষক। বিদ্যালয়ে এখনো ওয়াশ ব্লকসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই পাঠ গ্রহণ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি মাইছানিরচর গ্রামে অবস্থিত। মাইছানিরচর, মাদারেরচর ও ঘুগড়াকান্দি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র বর্তমানে মাদারেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাইছানিরচর গ্রামের ভোটারদের ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে প্রায় তিন মাইল পথ অতিক্রম করে ভোট দিতে যেতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে এটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, এতে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ এলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির আলী বলেন, “২০১২ সালে নদীভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হওয়ার পর ২০১৪ সালে নতুন স্থানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। এরপর একাধিকবার ভবনের বরাদ্দ এলেও চলমান মামলার কারণে পাকা ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম** বলেন, “বিদ্যালয়ের জন্য ভবনের বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু মামলা চলমান থাকায় এলজিইডি ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। মামলা নিষ্পত্তি হলে ভবন নির্মাণে আর কোনো বাধা থাকবে না। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।”

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরাদ হোসেন** বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে বিষয়টি জানানো হলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

মামলার বাদী মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, “নদীভাঙনের পর রসুলপুর (দুর্গাপুর) মাইছানিরচর এলাকার কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর স্বার্থ ও শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মুছা আলী বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়েছি। এখানে দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণ হলে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।”

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি করে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করারও নাম।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...