Logo Logo

মাদারীপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ


Splash Image

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লা।

মাদারীপুরে জমি জালিয়াতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং বাদীপক্ষকে বাগে আনতে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে চলেছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ১৬ অক্টোবর জমির মূল মালিক নুর জাহান বেগমের মৃত্যুর পর তার বৈধ ওয়ারিশদের কাছ থেকে ইতালি প্রবাসী জসিম মোল্লা সদর উপজেলার পেয়ারপুর মৌজার এসএ ৯০৬নং খতিয়ানের ৩৮৮৬ ও ৩৮৯৩নং দাগে মোট .৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু নুর জাহান বেগমের মৃত্যুর চার বছর পর, ১৯৯৪ সালের ২ নভেম্বর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অন্য এক অজ্ঞাত নারীকে ভুয়া দাতা সাজিয়ে ৪১৬৪ নং দলিলের মাধ্যমে উক্ত জমি লিখে নেয় একটি প্রতারক চক্র। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর জসিম মিয়ার শ্বশুর মাদারীপুর শহরের বাগেরপাড় এলাকার বাসিন্দা দিদার হাওলাদার বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট ৭ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই মাদারীপুরের তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ জমি জালিয়াতির অপরাধে আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখসহ ৫ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং পরবর্তীতে বাদীপক্ষ লিভ টু আপিল করলে মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই সাজা ও আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দুলাল শেখ বাদীপক্ষের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জসিম মোল্লার বড় ভাই স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারকে ফাঁসাতে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিচ্ছেন। এমনকি গত কয়েকদিন আগে চরমুগরিয়া এলাকায় দুলাল শেখ নিজের ভাইয়ের দোকানে নিজেই আগুন লাগিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেন। সেই মিথ্যা মামলায় ইদ্রিস মোল্লার ছেলেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতেও পাঠায়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ একটি জালিয়াতি মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতা শাজাহান খানের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে। সরকার পরিবর্তনের পরও তার সেই সন্ত্রাসী ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিজের ভাইয়ের দোকানে নিজে আগুন দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিল, আর প্রশাসন উপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই সেই মামলা গ্রহণ করে আমার ছেলেকে জেলে পাঠাল। তিনি এই হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ওরফে দুলাল শেখ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে তিনি বলেন, আমি ইদ্রিস মোল্লা বা তার পরিবারকে কোনো ধরনের হয়রানি করছি না। উল্টো ইদ্রিস মোল্লাই আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ইদ্রিস মোল্লা ও দুলাল শেখের মধ্যকার বিরোধ এবং মামলা-পাল্টা মামলার বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে, সেই প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...