বিজ্ঞাপন
গত ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্ত চিকিৎসককে জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেদগ্রাম এলাকার বাসিন্দা অমিত বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চিকিৎসক ডা. তাপস নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার সূত্র ধরে অমিতের স্ত্রী মিতু বিশ্বাসের সঙ্গে ওই চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জের ধরে পরবর্তীতে অমিত ও মিতুর মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদে রূপ নেয়।
মিতুর পরিবারের দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর চিকিৎসক তাপস তাকে বিয়ে করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে মিতু গোপালগঞ্জ শহরের একটি ভাড়া বাসায় ওই চিকিৎসকের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর বসবাস করেন। কিন্তু দিন যত পার হতে থাকে, বিয়ের কথা বললে চিকিৎসক তাপস নানা টালবাহানা ও কালক্ষেপণ শুরু করেন। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় মিতু চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, প্রতারণার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা গ্রামের একটি শ্মশানে গিয়ে বিষপান করেন মিতু। স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ১২ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুলাই তিনি মারা যান। নিহত মিতুর মূল বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নোলামারা গ্রামে। তার এই অকাল মৃত্যুতে দুটি সন্তান মাতৃহারা হয়েছে।
এ বিষয়ে মিতুর সাবেক স্বামী ও শ্বশুর সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ, কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাইনি। কিন্তু অন্যায়ের বিচার পেতে আমরা আদালতে মামলা করেছিলাম। গত ২ জুলাই আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত চিকিৎসককে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। ভগবান যা করেন, মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন। আমরা এই জঘন্য প্রতারণার সঠিক বিচার চাই।"
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও সংসার ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চিকিৎসক তাপসের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...