বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোণা জেলা পাবলিক হলে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক রুকন (সদস্য) সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সংগঠনের রুকনদের ইসলামের আদর্শে ত্যাগী, ধৈর্যশীল এবং যেকোনো বিপদের সময় অবিচল থাকার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার, বিভিন্ন গোষ্ঠী, এমনকি কিছু আলেম-উলামাও অনেক সময় আমাদের সমালোচনা করেন। তবে এই মুহূর্তে এসব সমালোচনা নিয়ে পড়ে থাকার বা ব্যস্ত হওয়ার মতো সময় আমাদের নেই। আমাদের সামনে দেশ ও জাতির কল্যাণে অনেক কাজ রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যে সমালোচনা আমাদের ভুল সংশোধন এবং সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে, তা আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করব।"
ইসলামে ক্ষমাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমীর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের পর ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "ইসলামের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো ক্ষমাশীলতা, যা মহানবী (সা.) তাঁর বাস্তব জীবনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন। হিংসা বা প্রতিশোধ নয়, বরং ত্যাগ, আদর্শ ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমেই দেশে প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।"
সংগঠনের নারী সদস্যদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, জামায়াতের অগ্রযাত্রায় মহিলা রুকনদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে গত নির্বাচনে তাদের সাহসী অবদান স্মরণীয় এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।
নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল আমীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি পবিত্র আল-কুরআন থেকে দারসের (আলোচনা) মাধ্যমে শুরু হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক নারী ও পুরুষ রুকন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলন শেষে ডা. শফিকুর রহমান নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পরে তিনি শহরের বড় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন এবং সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...