বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের মৃত আলী মাহমুদের ছেলে নুরুল আমীন (৬০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫০) এবং তাদের ছেলে ফরহাদ শাহ (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে নিজেদের টং দোকানে কাজ করছিলেন নুরুল আমীন, তার স্ত্রী ও ছেলে। এ সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি বিদ্যুতের তারে অসাবধানতাবশত হাত লেগে প্রথমে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে অপর দুজনও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনজন অচেতন হয়ে পড়েন।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে অনন্তপুর গ্রামে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা জানান, নুরুল আমীন ছিলেন পরিশ্রমী ও সবার কাছে পরিচিত একজন মানুষ। পরিবারটি সুখ-দুঃখে সবার পাশে থাকত। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ কল্পনাও করেনি।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রতিবেশী ও সচেতন মহল ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...