Logo Logo

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চূড়ান্ত:

রক্ষণে স্পেনের একচ্ছত্র রাজত্ব, গোল করায় সেরা আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স


Splash Image

চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্বের দুই ধাপে একের পর এক নাটকীয়তা শেষে পর্দা উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালের। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স—পরাশক্তিরা সবাই আছে চেনা ছন্দে। আর্লিং হালান্ডের একক নৈপুণ্যে নরওয়ে যেমন ইতিহাসে প্রথমবার শেষ আটে উঠেছে, তেমনি ১৯৬৬ সালের পুনরাবৃত্তির আশায় বুক বেঁধেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড, মরক্কো ও বেলজিয়ামও নতুন ইতিহাস গড়তে মরিয়া।


বিজ্ঞাপন


এই সাত পরাশক্তি দারুণ ফুটবল উপহার দিলেও, পরিসংখ্যানের পাতায় সবার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া বাকি ৭টি দলই কোনো না কোনো ম্যাচে গোল হজম করলেও, নিজেদের গোলবার এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অক্ষত রেখেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

আসরের শুরু থেকে শেষ ষোলোর লড়াই পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল এক কথায় অনবদ্য। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের জাত চিনিয়েছে ‘লা রোজা’রা। সৌদি আরবকে ৪-০ এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বেই গোল হজমের খাতায় ‘শূন্য’ ধরে রাখে তারা।

পরবর্তীতে রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর, শেষ ষোলোর মহাযুদ্ধে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে বিদায় করে স্পেন। ৫ ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের জালে ৯ গোল দিলেও কোনো গোল হজম না করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ৫ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার অনন্য নজির গড়েছে তারা। অবশ্য সহ-আয়োজক মেক্সিকোও শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে বিদায়ের আগে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পেরেছিল।

কোয়ার্টারে ওঠা বাকি ৭ দলের গোল হজম ও দেওয়ার পরিসংখ্যান: স্পেন ছাড়া কোয়ার্টারে ওঠা বাকি দলগুলোর রক্ষণ ও আক্রমণের আসল চিত্র কেমন? একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাদের পরিসংখ্যান:

১. আর্জেন্টিনা (গোল দিয়েছে- ১৪, হজম করেছে- ৫)

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে চরম নাটকীয়তার পর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসির দল এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে সর্বোচ্চ ১৪টি বল পাঠালেও, তাদের রক্ষণ ভেঙে প্রতিপক্ষ গোল করেছে ৫টি।

২. ফ্রান্স (গোল দিয়েছে- ১৪, হজম করেছে- ২)

এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানদের ফ্রান্স টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজেয়। কোনো ম্যাচ হারাতো দূরের কথা, অতিরিক্ত সময়েও খেলা নিতে হয়নি তাদের। গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ১০ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছিল ২টি। আর নকআউটের দুই ম্যাচে ৪ গোল দিলেও কোনো গোল হজম করেনি ফরাসিরা।

৩. ইংল্যান্ড (গোল দিয়েছে- ১১, হজম করেছে- ৫)

এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট ‘থ্রি লায়ন্স’রা তাদের আক্রমণভাগের ধার দেখিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। হ্যারিকেন-বেলিংহ্যামদের ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে মোট ১১টি গোল। তবে দলটির রক্ষণভাগ অতটা জমাট ছিল না, হজম করতে হয়েছে ৫টি গোল।

৪. নরওয়ে (গোল দিয়েছে- ১২, হজম করেছে- ৯)

ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে রূপকথা লিখছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের ওপর ভর করে এই যাত্রায় তারা গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের বক্সে, করেছে ১২টি গোল। তবে দুর্বল ডিফেন্সের কারণে হজমও করেছে সর্বোচ্চ ৯টি গোল।

৫. মরক্কো (গোল দিয়েছে- ১০, হজম করেছে- ৪)

কাতারের পর উত্তর আমেরিকাতেও আফ্রিকার আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছে মরক্কো। গ্রুপ পর্ব এবং নকআউট মিলিয়ে প্রতিপক্ষের গোলবারে মোট ১০টি বল পাঠিয়েছে আশরাফ হাকিমিরা। বিপরীতে (টাইব্রেকার বাদে) তারা গোল হজম করেছে ৪টি।

৬. সুইজারল্যান্ড (গোল দিয়েছে- ৯, হজম করেছে- ৩)

দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে চমক দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলা সুইসরা প্রতিপক্ষকে গোল দিয়েছে মোট ৯টি, আর রক্ষণ আগলে রেখে হজম করেছে মাত্র ৩টি গোল।

৭. বেলজিয়াম (গোল দিয়েছে- ৮, হজম করেছে- ৫)

গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পেয়ে বিদায়ের শঙ্কায় ছিল বেলজিয়াম। তবে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আসে তারা। প্রথম ৩ ম্যাচে ২টি গোল হজম করলেও, নকআউটের বৈতরণী পার হতে গিয়ে তারা হজম করেছে আরও ৩টি গোল (মোট ৫টি)।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...