বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। সে বরইতলী রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে। এ ঘটনায় ঝর্ণার অপর দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ ওয়াকিমের মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্পর মৃত্যু হয়।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে এক পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এর বাইরে কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, বান্দরবান পার্বত্য শহর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকাতেই এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেটগুলো সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬১ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গত ৬ দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...