বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. লালন মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ প্রহরায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন এবং পাশের একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রী নিহত সাজেদা বেগমের (৪০) বাড়ি ছিল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৪ সালে সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। সাজেদা ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম সংসারে লালনের পিকুল মোল্লা নামে ৩৪ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। তবে সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই মাদক গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে লালন নিয়মিতভাবে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার চাপ দিতেন। কয়েক দফায় সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে অর্থ এনে দিলেও সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। ওই টাকা না আনতে পারায় লালন একাধিকবার তাকে মারধর করেন। পরে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যা করেন।
ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে হত্যার অভিযোগে মো. লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি লালন মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং এ ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তির বার্তা সমাজে পৌঁছে দিতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে যৌতুকসহ এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...