Logo Logo

তাহিরপুরে পুলিশের অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক


Splash Image

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোররাতে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. সজল মিয়ার নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে মোল্লাপাড়া গ্রাম থেকে ইয়াবাসহ ওই তিনজনকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— বাদাঘাট ইউনিয়নের মোদেরগাঁও গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়া (৩৬), মোল্লাপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে ময়না মিয়া (৪০) এবং একই গ্রামের মৃত আক্কল আলীর ছেলে রয়েল মিয়া (৩৫)।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। তাঁদের এই মাদক কারবারের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

এ ছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের বাড়িতে ইয়ামাহা কোম্পানির দুটি আর-ওয়ান (R1) মডেলের লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই মোটরসাইকেলগুলো চোরাই এবং রাতের আঁধারে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার কাজে এগুলো ব্যবহার করা হতো। তবে মোটরসাইকেল জব্দের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে আটক তিনজনকে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, আটকের পর থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির ও সমঝোতা করে তাঁদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে। তবে এই তদবিরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, সরকার মাদক নির্মূলে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার কারণেই এই মাদক কারবারিরা পার পেয়ে যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সজল মিয়ার সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুকের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...