বিজ্ঞাপন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, গত ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জেলার ৫টি উপজেলার ৩০৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেত থেকে পানি নামতে শুরু করেছে এবং মাঠকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজ আক্তার জানান, এই সময়ে সাধারণত উপজেলার মাঠগুলোতে ফসল কম থাকে। বৃষ্টির কারণে কিছু ফসল আক্রান্ত হলেও এখনো বড় ধরনের কোনো স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে না, কারণ পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর প্রকৃত ক্ষতির সঠিক তথ্য জানা যাবে।
সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজ কুমার রায় জানান, তাঁর ব্লকে আবাদ হওয়া ৬ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ২ হেক্টর এবং আবাদ হওয়া ১ হেক্টরের কম সবজি জমির মধ্যে ৫০ শতাংশ জলমগ্ন হয়েছে। যার মধ্যে মরিচ, ধুন্দল, বরবটি ও করলা রয়েছে। তবে পানি নামতে শুরু করায় আউশ ধানের গাছ পুনরায় জেগে উঠছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে দক্ষিণ গোবরা গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ২০ শতাংশ জমিতে ধুন্দুল, করলা ও বরবটির আবাদ করেছিলেন। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে। এতে তাঁর প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে।
একই গ্রামের কৃষক শেখ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি ১০০ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছিলেন। বৃষ্টিতে পুরো জমি তলিয়ে গেলেও পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের চারা জেগে উঠছে। জলমগ্নতা সহনশীল জাত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন না তিনি।
কৃষক সাফায়েত মোল্লা জানান, তাঁর ৫২ শতাংশ জমির আউশ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে।
গোবরা ইউনিয়নের পোদ্দারের চর গ্রামের কৃষক অমিত হাসান বলেন, ৫২ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। অতিরিক্ত পানিতে মরিচ গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে, এতে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একই ইউনিয়নের চরগোবরা গ্রামের কৃষক রমজান বলেন, ২৫ শতাংশ জমির মরিচখেতে বৃষ্টির কারণে রোগ দেখা দিয়েছে। গাছে থাকা মরিচের ক্ষতিতে প্রায় ৫ হাজার টাকার লোকসান হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলেও মৎস্য খাতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, বিলবেষ্টিত ও নিচু এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গোপালগঞ্জের কোনো পুকুর বা মৎস্য ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার ২২৯টি বিল, ১০টি নদী, ৬টি বাওড় ও ৩৩৪টি খাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ৪২ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৩৯৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) বৃষ্টিপাত কম থাকলেও আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহে বৃষ্টি আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত চলতি মাস জুড়েই কমবেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, জেলার বুক চিরে প্রবাহিত মধুমতি নদী, কুমার নদ ও মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জে এই মুহূর্তে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...