বিজ্ঞাপন
কূটনীতির ভাষায় এই বিশেষ প্রাথমিক ভোটাভুটি প্রক্রিয়াটি ‘স্ট্র পোল’ নামে পরিচিত। টানা পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদে মোট ১০ বছর দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে পর্তুগালের নাগরিক আন্তোনিও গুতেরেসের। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বসংস্থার শীর্ষ পদে আসীন হতে মূলত লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের প্রার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। বর্তমানে এই মর্যাদাপূর্ণ দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আর্জেন্টিনা, চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, সেনেগাল এবং উগান্ডার মনোনীত সাতজন প্রার্থী। বৃহস্পতিবারের এই অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’-এর মাধ্যমে মূলত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এসব প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণের মাত্রা পরখ করে নেবেন। জাতিসংঘের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এই গোপন ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে তিন ধরনের মতামত জানাতে পারবে—‘সমর্থন করি’ (Encourage), ‘সমর্থন করি না’ (Discourage) এবং ‘কোনো মতামত নেই’ (No Opinion)। প্রাথমিক ধাপে ব্যালাটগুলো অভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সদস্য দেশ কিংবা পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (ভিটো ক্ষমতাধর) মনোভাব প্রকাশ্যে আসবে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বসম্মত একক প্রার্থী নির্বাচন করতে সাধারণত একাধিক দফায় এমন গোপন ভোটাভুটি পরিচালনা করতে হয়। সার্বিক প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম পেতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ অথবা অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদ থেকে একটি একক নাম চূড়ান্ত করার পর তা অনুমোদনের জন্য ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্যের কারণে কোনো একক প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে দেরি হলে এই প্রক্রিয়ার ব্যাপ্তি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...