বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে আবেগরুদ্ধ মানচিনি বলেন, “আমি সত্যিই গভীরভাবে দুঃখিত। এই অনুভূতিটি ঠিক যেন জীবনের সবচেয়ে প্রিয় নারীকে ভুল করে হারানোর মতো। এর অর্থ আপনি এমন একটি কাজ করে ফেলেছেন, যা আপনার করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। বিগত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে, তার সব কিছুর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য ইতালিকে তার পূর্বের গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।”
উল্লেখ্য, মানচিনির অধীনেই ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) জিতেছিল ইতালি। তবে ২০২৩ সালের আগস্টে হঠাৎ করেই ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর সৌদি আরবের জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে বড় অঙ্কের চুক্তিতে সই করেন। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (FIGC) তৎকালীন সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনার সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ না রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই নিজের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মানচিনি।
ইতালিয়ান ফুটবলে সম্প্রতি নেমে এসেছিল চরম হতাশা। প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই বিপর্যয়ের পর পদত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট গ্রাভিনা ও তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো।
পরবর্তীতে ডাগআউটের নতুন কান্ডারি খুঁজতে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার দ্বারে যায় ফেডারেশন। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় সুযোগ আসে সাবেক কিংবদন্তি আন্দ্রেয়া পিরলোর। তবে রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ বিতর্ক ঘিরে পিরলো শেষ মুহূর্তে বাদ পড়লে আবারও মানচিনির দিকেই হাত বাড়ায় ইতালি ফুটবল বোর্ড।
ইতালির কোচ হিসেবে মানচিনির এই দ্বিতীয় অধ্যায়টি শুরু হতে যাচ্ছে বেশ কঠিন চাপের মধ্য দিয়েই। সমর্থকদের ক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি জানি অনেকেই হয়তো এখনো আমার ওপর ক্ষুব্ধ। তবে দল যদি মাঠে সেরাটা দিতে পারে এবং জয় ছিনিয়ে আনে, আশা করি মানুষ একসময় আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোমের ঐতিহাসিক স্তাদিও অলিম্পিকোতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইতালিয়ানরা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শুরু হবে মানচিনির দ্বিতীয় পর্ব। আগের মেয়াদের সাফল্য ফিরিয়ে এনে ইতালিকে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন কি না মানচিনি, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...