বিজ্ঞাপন
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২০ মার্চ ১৭.২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে মুকসুদপুর পৌরসভা গঠিত হয় এবং ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এই পৌরসভাটি ২০১৭ সালে 'খ' শ্রেণিতে উন্নীত হয়। কুমার নদীর তীরে গড়ে ওঠা ৩০ হাজার ৯৫৯ জন জনসংখ্যার এই পৌরসভায় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী বর্জ্য ফেলার ভাগাড় (ডাম্পিং স্টেশন)। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ৫ থেকে ৭ বছর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে এবং পরবর্তীতে গোপীনাথপুর আটাডাঙ্গা বাওড়ে বর্জ্য ফেলা হতো। তবে বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ময়লা সংগ্রহ করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডিবর্দী এলাকায় সরাসরি কুমার নদীতে ফেলা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
চণ্ডিবর্দী গ্রামের বাসিন্দা মবিন শেখ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন পৌরসভার গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা এনে সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি পুরোপুরি নষ্ট হচ্ছে এবং ভয়াবহ দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম কনক ও হাসান মোল্যা জানান, বাজারে জবাই করা গরুর উচ্ছিষ্ট, পচা ফল ও সবজির বর্জ্যে বাজার সংলগ্ন নদীপাড় দুর্গন্ধের এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামান্য বাতাস পেলেই এই দুর্গন্ধ পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টি হলে বর্জ্য পচে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে বাজারে বসে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে পথচারী উত্তম কুমার জানান, বাজারের পথ দিয়ে যাতায়াত করার সময় নাকে কাপড় চেপে চলাচল করতে হয়। কাছেই একটি স্কুল ও একটি মসজিদ থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং মুসল্লিদের প্রতিদিন বাধ্য হয়ে এই নোংরা পরিবেশ সহ্য করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরত্বের অন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।
পরিবেশগত এ বিপর্যয় সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান ব্যাখ্যা করেন, রান্নাঘরের পচনশীল উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিক বা কাচের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য, ইলেকট্রনিক বা ই-বর্জ্য এবং হাসপাতাল ও রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য—সবকিছুই যত্রতত্র ফেললে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। পৌরসভার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে বর্জ্যের ধরন বুঝে এর সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা পৌর কর্তৃপক্ষের অন্যতম মূল দায়িত্ব।
উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম শোভন জানান, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার ফলে স্থানটি মারাত্মক রোগজীবাণুর আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়। বর্জ্যে বসা মাছি খাবারে সংক্রামিত হয়ে ভয়াবহ ব্যাধি ছড়ায়। এসব বিষাক্ত উপাদান শুধু মানুষের স্বাস্থ্যই নয়, অঞ্চলের সামগ্রিক প্রাণিকুলের জন্যও চরম বিপজ্জনক।
নদী দূষণ ও সার্বিক বর্জ্য সংকট প্রসঙ্গে মুকসুদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির জানান, সরকারি খাস জমিতে একটি স্থায়ী বর্জ্য ভাগাড় নির্মাণের জন্য তারা নির্দেশনা পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই জমি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে এবং খুব শীঘ্রই ভাগাড় নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বড় আকৃতির ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...