ছবিঃ Reuters
বিজ্ঞাপন
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা রাডারে ভোরে একটি অজানা চালকবিহীন যানের (ড্রোন) গতিবিধি ধরা পড়ে। প্রতিবেশী মলদোভা সীমান্ত অতিক্রম করে ড্রোনটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর গালাতির প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অনুপ্রবেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রোমানিয়ায় এয়ার পলিসিং মিশনে মোতায়েন থাকা স্প্যানিশ ন্যাটো কন্টিনজেন্টের একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-১৮’ যুদ্ধবিমান আকাশে ড্রোনের অবস্থান শনাক্ত করে। সামরিক কমান্ড থেকে আকাশেই ড্রোনটি ধ্বংসের চূড়ান্ত নির্দেশ আসার পর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১ মিনিটে সেটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া হয়। ফলে আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ড্রোনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূপাতিত ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ দুটি গ্রামের মধ্যবর্তী একটি প্রত্যন্ত ও জনবসতিহীন কৃষিজমিতে আছড়ে পড়ে। এতে মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি বা সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
ন্যাটোর সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্র এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্নেল মার্টিন ও'ডনেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক জোটটি পূর্ব সীমান্তে সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর হুমকি প্রতিরোধে পুরোপুরি প্রস্তুত। রোববারের এই অনধিকার প্রবেশের ঘটনাটি এখনো বিস্তারিত তদন্তাধীন থাকলেও প্রাথমিকভাবে এটি রাশিয়ান ড্রোন বলে প্রবল ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে রোমানিয়ার প্রায় ৬১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সীমান্তবর্তী দেশটিতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর আগে গত জুলাই মাসেও রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার পর তিনটি রুশ ড্রোন গুলি করে নামিয়েছিল ‘এফ-১৬’ যুদ্ধবিমান। এছাড়া গত মে মাসে ড্যানিউব নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ড্রোন গালাতি শহরের আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়লে দুইজন নাগরিক আহত হন। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরের জ্বালানি রুটে ভাসমান মাইন পাওয়া যাওয়ায় কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...