বিজ্ঞাপন
সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়কের গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে সাচনা–জামালগঞ্জ সড়কে আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মো.মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এমডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ–সাচনাবাজার সড়কে বর্তমানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কাজ চলমান নেই। সওজ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলে সড়কের পাশে থাকা মূল্যবান ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে এক হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, সড়ক সম্প্রসারণ কিংবা উন্নয়ন কাজই যদি না থাকে, তাহলে কোন স্বার্থে নির্বিচারে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে? সওজ বিভাগের বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের এই বৈপরীত্যের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের দাবি, উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধনের আড়ালে কোনো অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এমনিতেই নানা কারণে হুমকির মুখে। এর মধ্যে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক বনায়নের গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছগুলো শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে না, এগুলোর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আর্থিক ও সামাজিক স্বার্থও জড়িত।
তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে যে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল, সেই গাছ কাটার ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের ন্যায্য অংশ বা লভ্যাংশ যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ–সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা এবং বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা এবং বৃক্ষনিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, ইতোমধ্যে যেসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে একই রুটে কাটা গাছের অন্তত দ্বিগুণ সংখ্যক নতুন গাছ দিয়ে সামাজিক বনায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গাছ কাটার আগে পরিবেশগত প্রভাব, প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গাছ কাটা বন্ধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
তাদের ভাষ্য, উন্নয়নের নামে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হাওরাঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় ‘গাছ বাঁচান, পরিবেশ বাঁচান’, ‘হাওর বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...