Logo Logo

এক টাকার বঁড়শিতে ৩৭ বছর, মাছ ধরেই চলে দীনেশের সংসার


Splash Image

আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে আজও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ৫৭ বছরের দীনেশ রায়। ১ টাকার বরশিকে সম্বল করে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে খাল, বিল, নদী ও জলাশয় থেকে মাছ ধরে পাঁচ সদস্যের পরিবারের আহার জুগিয়ে আসছেন এই অদম্য প্রবীণ।


বিজ্ঞাপন


দীনেশ রায় নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বেহারাপাড়া এলাকার মৃত ধীরেন রায়ের ছেলে। সংসারের চরম অভাব-অনটনে জীবিকার তাগিদে এই পথ বেছে নেন তিনি। বরশি, মাটির কলস আর পোকা-মাকড়ের ডিম কিংবা টোপ—এই সামান্য উপকরণ দিয়েই প্রতিদিন ছুটে চলেন জলাশয়ের খোঁজে।

সম্প্রতি নিজের সংগ্রামগাথা তুলে ধরে দীনেশ রায় জানান, পাঁচ-দশ বছর আগেও নদী-নালা ও বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। দিনে ৪-৫ ঘণ্টা বরশি দিয়ে মাছ শিকার করে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো। শিং, মাগুর, টেংরা ও কৈসহ হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছের দারুণ চাহিদা ছিল পাড়া-মহল্লায়। অনেকে চাল বা সবজির বিনিময়েও তার কাছ থেকে মাছ নিতেন। কিন্তু বর্তমানে কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের মতো অনৈতিক উপায়ে মাছ নিধনের ফলে জলাশয়ে দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এখন আর শুধু বরশি দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয় না; মাঝেমধ্যে অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবেও কাজ করতে হয় তাকে।

দীনেশ রায়ের এই দীর্ঘ লড়াই ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সদরের সাবেক শিক্ষক আহসান হাবীব (৭০) বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে দীনেশ রায় আজও পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। সচেনত মহলের উচিত এ ধরনের মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।

হাজী চয়েন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায়ও একই অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, যখন সবাই আধুনিক প্রযুক্তির পেছনে ছুটছে, তখন দীনেশ যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। বরশিই তার পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন হওয়ায় সমাজের দানশীল ও সুশীল ব্যক্তিদের তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

পেশা যেখানে নেশায় রূপ নিয়েছে, সেখানে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বঁড়শি হাতে নতুন দিনের আশায় জলাশয়ের ধারে পথ চেয়ে বসে থাকেন দীনেশ রায়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...