Logo Logo

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে খলনায়ক ডন


Splash Image

নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত পরিকল্পিত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান আসামি ডনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনের পক্ষে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ আদালতে তুলে ধরেন:

১. এটি দেশের অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ১৯৯৬ সাল থেকে ভিকটিম সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী) নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সোচ্চার রয়েছেন। মামলাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামি ডনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

২. আসামি ডন অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার সাথে জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে।

৩. ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কার ইন্ধনে এবং কোন কৌশলে দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড অপরিহার্য।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট সিএমএম আদালত এবং ২৫ আগস্ট মহানগর দায়রা আদালত—উভয় আদালতেই ডনের জামিন আবেদন নাকচ হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষে থাকা নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানালে আদালত সিআইডিকে অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ একসাথে তদন্তের নির্দেশ দেন।

একই বছরের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে সালমানের মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করে, যা তৎকালীন সিএমএম আদালত গ্রহণ করেন। তবে সালমানের পরিবার সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ ১১ জনকে নামীয় ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণীতে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মা, বাবা ও ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিমের ফোনের বার্তা পেয়ে পুনরায় সেখানে গিয়ে তারা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারীকে তাঁর শরীরে তেল মালিশ করতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকরা জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন।

মামলা পরিচালনাকারী আলমগীর জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এদিকে, প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য গত মে মাসে আদালত অনুমতি দেন এবং জুনে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলাটিতে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...