Logo Logo

নুসরাত হত্যা মামলা : ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা শুরু


Splash Image

ফেনীর সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা শুরু করেছে হাইকোর্ট।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশোদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় পড়া শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

এর আগে গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষের মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিলসহ অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন। এরপর ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি তার কার্যক্রম শুরু করে।

মামলার নথি ও পেপারবুক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে মামলা তুলে না নেওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনার পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন— এস এম সিরাজ উদদৌলা, রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও মোহাম্মদ শামীম।

নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং তা ডেথ রেফারেন্স মামলা নম্বর ১৪০/১৯ হিসেবে নিবন্ধিত হয়। এরপর আসামিরা হাইকোর্টে পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটি অগ্রাধিকার তালিকায় রেখে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...