বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৮টি সরকারি বাড়ি বিনা দরপত্রে বিক্রির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়। তারা হলেন—এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।
অন্য আসামিদের মধ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি, আহমেদ আকবর সোবহান দুটি এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরী পৃথক মামলায় আসামি ছিলেন। রায়ে তারাও সবাই খালাস পেয়েছেন।
দুদক ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগানরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও দুর্নীতি করা হয়। এতে প্রভাবশালী ও পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দিয়ে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে কম মূল্যের দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদন দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া বেশি মূল্যের দরও তিনি আমলে নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত মির্জা আব্বাসসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়ার রায় দেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...