বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। পরবর্তীতে ময়না তদন্তে নিহত নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, "ময়না তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চারজনকেই যে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। নিহত দুই নারী আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষা করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, "গলায় মারাত্মকভাবে চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হলে মানবদেহের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় মলমূত্র বা বীর্য বের হয়ে আসতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এক ডোম বীর্য দেখার যে কথা বলেছিলেন, তা আসলে ভিকটিমের মৃত্যুর পর শরীর থেকে বের হওয়া স্বাভাবিক তরল (ডেডবডির রস) ছিল, কোনো ধর্ষণের আলামত নয়।"
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের পালানোর বিষয়ে তিনি জানান, দখিনগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে বিদ্যুৎ দাস উল্লেখ করেন যে, ঘটনার পর মুগ্ধ দাস তাঁর কাছে গিয়ে পানি চেয়ে বলেন, 'দাদা আমাকে পানি দাও, আমি ও সিদ্ধার্থ স্যারসহ চারজনকে হত্যা করেছি।'
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদকসেবনে বাধার পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত পুরোনো ক্ষোভের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত গণপতি চক্রবর্তী সাবেক অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। ওই জমি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হলেও পরিবারের সদস্যদের মাঝে টাকার আনুপাতিক ভাগাভাগি নিয়ে সিদ্ধার্থদের বংশে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ছিল। জমির টাকার ভাগাভাগি ও ক্ষোভের বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে পুলিশি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...