বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় নাছরিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে নাছরিনের বিয়ে হয়। মান্নানের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাছরিনের পরিবার জামাতাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। তবে কিছুদিন ধরে মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দাবি করা যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় বুধবার রাতে আব্দুল মান্নান, তার ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম পক্ষের ছেলে আলমগীর হোসেন ও আলমগীরের স্ত্রী আরিফা বেগম মিলে নাছরিনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে নাছরিনকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন, তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে। ঘটনার দিন ফের যৌতুকের টাকা দাবি করা হলে নাছরিন প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন নিহতের বাবা।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...