Logo Logo

রক্তের সংকট দূরীকরণে চাই সামাজিক জাগরণ : শুরু হোক স্কুল-কলেজ থেকেই


Splash Image

আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে রক্তের চাহিদা বাড়ছে। প্রসবকালীন জটিলতা, থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসার, কিংবা ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মতো জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের কোনো বিকল্প নেই। অথচ সচেতনতার অভাব এবং একশ্রেণির মানুষের উদাসীনতার কারণে এখনো আমাদের দেশে প্রায়ই রক্তের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সাধারণ জনগণকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে সচেতন করে তোলা।


বিজ্ঞাপন


ভীতি দূর করে গড়তে হবে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ মানুষ প্রতি চার মাস পর পর নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। এতে শরীরের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং রক্তদাতার হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে রক্তদান নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা ও অপ্রয়োজনীয় ভীতি কাজ করে। এই মানসিক জড়তা ভেঙে সাধারণ জনগণকে বোঝাতে হবে যে, আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারে একটি পরিবারকে নতুন করে বেঁচে থাকার আলো।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক সচেতনতার মূল কেন্দ্র। রক্তদানের সুফল এবং এর মানবিক দিক সম্পর্কে অবহিত করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ছাত্রজীবন। দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তদানের গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি। তরুণ বয়সেই যদি শিক্ষার্থীদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া যায় যে, রক্তদান কোনো ভয়ের বিষয় নয় বরং এটি একটি পরম সামাজিক দায়িত্ব, তবে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথেই রক্তদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে।

প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে স্কাউট, গার্ল গাইডস বা রেড ক্রিসেন্টের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি রক্তদাতাদের নিজস্ব ক্লাব বা ডাটাবেজ গড়ে তোলা দরকার। তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে রক্তাদানের এই আন্দোলন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

রক্ত কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা যায় না; মানুষের রক্তের অভাব কেবল মানুষের রক্ত দিয়েই পূরণ করা সম্ভব। তাই রক্তের সংকটে যেন আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না পড়ে, সেজন্য আমাদের এখনই একযোগে কাজ করতে হবে। আসুন, নিজে রক্ত দান করি এবং তরুণ প্রজন্মকে এই মহৎ কাজে উৎসাহিত করে একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...