বিজ্ঞাপন
এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বালন করে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ্জামান। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ও ফেস্টুনসহযোগে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত-পুণ্যার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শক্তি ও গৌরবময় ঐতিহ্য। এ ভূখণ্ডের মানুষ হাজার বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনুষ্ঠানিক কোনো আচার নয়; এটি সমাজে অন্যায় প্রতিরোধ এবং ভালোবাসা, শান্তি ও সামাজিক ন্যায়ের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি। সম্প্রীতির এই চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের তাত্পর্য বিশ্লেষণ করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শ্রীমতী সুবর্ণা শিকদার এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ। বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবনদর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। আলোচনা সভা শেষে ভক্তিমূলক সংগীত ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সার্বিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে জেলা শহরজুড়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...