বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন বৈলর ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকায় কৃষিজমি ভাড়া নিয়ে এসব কারখানা গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কলকারখানা পরিদর্শকের কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কারখানাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের নজরদারি এড়াতে বিশেষ করে রাতের আঁধারে চুল্লিতে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা আলাদা করার কাজ চলে পুরোদমে। এ সময় পোড়া অ্যাসিড ও বিষাক্ত ভারী ধাতুর তীব্র গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, যা আশপাশের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সিসার বিষবাষ্প ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভারী ধাতুর কণা আশপাশের রোপা আমন, বোরো ধানের খেত এবং মৌসুমি ফলমূলের ওপর আস্তরণ ফেলে গাছ জ্বালিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি ওই জনপদের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছেন। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, চোখে জ্বালাপোড়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল অসুস্থতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ত্রিশাল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ফসলি জমিতে অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে সিসা গলানো কিংবা ব্যাটারি পোড়ানোর কারখানা স্থাপনের সুস্পষ্ট তথ্য প্রশাসনের নজরে এসেছে। কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত এসব বিষাক্ত পরিবেশদূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত সরেজমিনে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব কারখানার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...